Health & Beauty

ত্বকের উজ্জলতা ধরে রাখার জন্য কি করতে হবে

সবাই একটু ফর্সা ও গ্লোয়িং ফেইস পছন্দ করি। নিজের স্কিনটা যদি উজ্জ্বল এবং ফর্সা না দেখি তাহলে অনেক বেশি বিষন্ন হয়ে যায়। ফর্সা গায়ের রঙ ও উজ্জ্বল গায়ের রং দুটোতে কিন্তু তফাৎ আছে। কারো স্কিন কালো, কিন্তু দেখা যাচ্ছে তার স্কিন টা খুব ভালো গ্লো করছে। আবার অনেকের ত্বক একেবারে ফর্সা কিন্তু স্কিন খুব একটা গ্লো করেনা। তার মানে আপনার ত্বকের মধ্যে কোন সমস্যা আছে। যে স্কিনটা গ্লো করছে সেই স্ক্রিনটাই সবচাইতে ভালো, হোক সেটা কালো বা ফর্সা।

পরিমাণ মতো পানি পান

আমাদের স্কিনকে সতেজ রাখতে সবচেয়ে বেশি যে খাবার টা প্রয়োজন সেটা হলো ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার বা পানি। আমরা অনেকেই ডিটক্স ওয়াটার খায়। কিন্তু যদি প্রশ্ন করেন সবচেয়ে ভালো ডিটক্স কোনটা? তার উত্তর হবে পানি। আপনার ওজনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিমাণ মতো পানি পানের কোন বিকল্প নেই। কারণ ত্বকে পরিমাণ মতো পানি না দিতে পারলে কোষগুলো মারা যাবে। এতে আপনার ত্বকে দাগ বা কালো বর্ণ ধারণ করবে। আপনার বডিতে পরিমাণ মতো পানি দিতে পারলে দেখবেন আপনার স্কিন অটোমেটিক গ্লো করছে।

একজন অ্যাডাল্ট মানুষ হিসেবে দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি বা পানি জাতীয় খাবার আপনার খাদ্য তালিকায় রাখলে এবং সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন মিনারেল খাদ্য তালিকায় থাকলে অভিয়াসলি আপনার স্কিন টানটান তো থাকবেই সাথে স্কিনটা অনেক বেশি গ্লো করবে।

গর্ভাবস্থায় শিশুর ত্বক সম্পর্কে সচেতন হওয়া

একজন মা যখন গর্ভাবস্থায় থাকেন, তখন খাদ্যাভ্যাসের সাথে শিশুর ত্বকের সম্পর্ক রয়েছে। আরেকটা হল- যেহেতু বাবা-মা দুজনের থেকে একটি সন্তান হয়, সেহেতু কোন কোন ক্ষেত্রে গায়ের রংটা থেকেও আসে। তারপরও গবেষণায় দেখা গেছে গর্ভাবস্থায় মায়ের খাদ্যাভ্যাস ভালো থাকলে বাচ্চার স্কিনের উজ্জ্বলতা বা গ্লোয়িং স্কিন দেখতে পাওয়া যায়।

image: pexels

গর্ভাবস্থায় যে খাবার খেতে হবে

গর্ভাবস্থায় একজন মা যদি তার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, ন্যাচারাল ও ফ্রেশ ফল-মূল, শাকসবজি, সালাদ থাকে তাহলে বাচ্চার ত্বক উজ্জল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাছাড়া আমরা জাফরানের কথা জানি, হলুদের কথা জানি। দুধের সাথে হলুদ কিংবা জাফরান মিক্স করে রেগুলার খেলে বাচ্চার গায়ের রং এর উপর অটোমেটিকলি একটা প্রভাব ফেলে। খাদ্য তালিকায় কমপক্ষে প্রতিদিন একবার ভ্যারাইটি ফ্রুট সালাদ রাখবেন।

পর্যাপ্ত ঘুম

আরেকটা ইম্পর্টেন্ট জিনিস হলো পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাবেন। না ঘুমালে অটোমেটিক্যালি স্কিনের কোষ গুলো নষ্ট হয়ে যাবে ফলে আপনার বয়স যখন ২৫ হয়ে যাবে দেখবে আস্তে আস্তে আপনার স্কিন টা নষ্ট হতে শুরু করে দিয়েছে। এখন অবশ্য ২৫ বছরও লাগেনা তার আগেই ত্বক নষ্ট হয়ে যায়।

খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন

আপনি মানুন কিংবা না মানুন আপনাকে মনে রাখতে হবে পুরো বডির প্রতিটা অর্গান আপনার খাবারের সাথে রিলেটেড। আপনি কী খাচ্ছেন সেটা আপনার স্ক্রিনের মাধ্যমে ফুটে উঠবে। আপনি যদি অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খেয়ে থাকেন তাহলে এটি কিন্তু আপনার স্ক্রিনকে নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। যাদের স্ক্রিনে প্রচুর ব্রণ, স্পট, পিগমেন্টেশন হয় খেয়াল করে দেখুন আপনার খাদ্যাভ্যাস ভালো না। দেখবেন তারা ঠিক মতো ঘুমাতে পারে না, সেই সাথে প্রচন্ড স্ট্রেসফুল থাকে। আর এই অভ্যাসগুলো স্ক্রীন টা নষ্ট করে দেবে। তাই যখন যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন ঘুমটাকে নিশ্চিত করুন।

ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া

প্রতিদিন আপনার খাদ্য তালিকায় ভিটামিন-সি রাখতে হবে। ভিটামিন-সি আমাদের বাড়িতে তৈরি হয় না। এজন্য আপনাকে আউটসাইড থেকে ভিটামিন সি নিতে হবে। এছাড়া জিংক এবং ভিটামিন-বি যুক্ত খাবারও আপনার খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে। আসলে খাবারের কোন বিকল্প নেই।

ফেসওয়াশের ব্যবহার কমানো

অনেকেই স্কিনের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ফেসওয়াশ করে থাকেন। এই জায়গাটাতে আমি বলব দয়া করে অনেক বেশি ফেসওয়াশ করবেন না। বিভিন্ন ধরনের ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ দিয়ে দিনে তিন থেকে চার বার চিন্তা করেন যে মুখটা ধুলেই বোধহয় ত্বকটা উজ্জল হবে। এক্ষেত্রে আপনার মুখের উজ্জলতা নষ্ট হয়ে যাবে। এর জন্য বরং স্কিনের উজ্জলতা অটোমেটিকেলি চলে যাবে। কারণ আপনি ত্বকের সেলগুলোর উপর অনেক বেশি প্রেসারাজ করছেন। মনে রাখতে হবে মুখের স্কিন খুব সেনসিটিভ। তাই যারা নরমালি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন পাঁচ বার কিন্তু মুখ ধোয়া হচ্ছেই। এছাড়াও বার বার আমরা মুখে পানি দিয়ে ধোয়াই যথেষ্ট। ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বকের ভিতর থেকে ময়লা বের করতে পারেনা

ঘরে তৈরি ক্লিনজারের ব্যবহার

তাই ক্লিনজার হিসেবে অনেক প্রোডাক্ট আছে যেমন- টক দই, লেবু, মধু, ময়দা ইত্যাদি। এই ধরণের উপাদান দিয়ে প্যাক তৈরি করে সপ্তাহে একদিন মুখের ময়লা ক্লিন করে নিতে পারেন। আপনি যদি চান প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার করতে তাহলে শুধুমাত্র টকদই, লেবুর মধ্যে তিনটা ইনভেলিড দিয়ে ফেসে লাগিয়ে ভালো করে ফেস ধুয়ে ফেলুন।

স্কিনের নষ্ট সেল

প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়া

লাইফ স্টাইলটা একটু ন্যাচারাল করে ফেলুন। ন্যাচারাল ফুড খাবেন, ন্যাচারাল জিনিসগুলো, ইউজ করবেন। উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য টমেটো খাবেন। আবার টমেটোতে একটু মধু মিক্স করে আপনার স্ক্রিনে লাগাবেন দেখবেন টানটান স্কিন পেয়ে যাবেন। আবার আপেলের পেস্টের সাথে মধু মিশিয়ে নিলেও স্কিন টানটান হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন এই ধরনের জিনিস গুলো ব্যবহার করলে ন্যাচারালি অনেক বেশি বেনিফিটেড হবেন।

লাইফস্টাইল পরিবর্তন করা

মনে রাখবেন স্ক্রিনের কিন্তু ক্যান্সার হয়ে থাকে কাজে খুব কেয়ারফুল থাকতে হবে কি প্রোডাক্ট আপনি ইউজ করছেন। শুধু বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট ইউজ করলে কিন্তু আপনার স্ক্রিন সুন্দর হবেনা। আপনাকে আগে লাইফ স্টাইল পরিপূর্ণভাবে ঠিক করতে হবে। তারপরে প্রোডাক্ট এপ্লাই করতে হবে। শুধুমাত্র বিভিন্ন ধরনের মুখের স্কিন, লোশন বা পেস্ট দিলে কিন্তু আপনার উজ্জ্বলতা বাড়বে না।

ভালোভাবে মেকআপ পরিষ্কার করা

যারা অনেক বেশি মেকআপ করেন তাদের মেকআপটা খুব ভাল করে ক্লিন করতে হবে। মেকআপ স্ক্রিনে ব্যবহারের অনেকগুলো ভেরিয়েশন পাবেন। আপনার স্কিনের জন্য কি ধরণের মেকআপ ব্যবহার করবেন তা জেনে নেবেন। স্কিনের ধরন অনুযায়ী মেকআপ ইউজ কর খুব খুব ইম্পর্টেন্ট। এরপর চেষ্টা করতে হবে যে মেডিকেটেড স্পেন এবং মেডিকেটেড মেকআপ যেগুলো আছে যেটা আপনার স্কিনের সাথে শুট করে এই ধরনের মেকআপ ব্যবহার করার। মনে রাখবেন একবার যদি স্ক্রিন নষ্ট হওয়া শুরু হয় সেটা কিন্তু রিকভার করা আপনার জন্য আসলেই অনেক কষ্টকর হয়ে যাবে।

মুখের ব্যায়াম করা

মুখের কিছু ব্যায়াম আছে, সে ব্যায়ামগুলো যদি করেন যেগুলো তাড়াতাড়ি আপনার স্কিন টানটান করতে সাহায্য করবে। ইউটিউবে খুঁজলে এই ব্যায়াম গুলো পেয়ে যাবেন। যেমন সুগার ফ্রি চুইংগাম চাবানো। অনেকে আবার বলবে এটা করলে চাপা ভেঙ্গে যাবে। সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন সুগার ফ্রি চুইংগাম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে মুখের স্কিনের যে মাংস পেশী গুলো আছে সেগুলো তখন খুব একটিভ হয় ও ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে। আবার আমরা খাবার খুব ভালো করে চিবিয়ে না খেয়ে গবগব করে গিলে ফেলি! এ কাজটা না করে যেকোনো খাবার ভালো মতো চিবিয়ে খাবেন। এতে আপনার মুখের পেশীগুলো খুব একটিভ হবে। দেখবেন অটোমেটিক আপনার উজ্জ্বলতা বাড়বে। কারণ ব্লাড সার্কুলেশন যত ভালো হবে আপনার মুখের সেলগুলো ততো ভালো থাকবে, দেখতেও উজ্জ্বল ও সুন্দর লাগবে।

ত্বক ও সৌন্দর্যের যত্নে আরও দেখুন এখানে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button